পৃষ্ঠাসমূহ

বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

পাঠকের উকিল দুই দুলা ভাইয়ের সঙ্গেও মেয়েটির সম্পর্ক ছিল





আমার নাম তরিকুল ইসলাম। কিন্তু স্কুলে কম্পিউটার টাইপের ভুলের কারণে জেএসসি (২০১৩) ও এসএসসির (২০১৬) সনদপত্রে এবং এইচএসসির (২০১৮) কাগজপত্র আমার নাম হয়ে যায় তোতা মিয়া। এখন আমি কীভাবে এটা বদলে আমার আসল নাম তরিকুল ইসলাম করব? যেন সরকারি চাকরিতে কোনো সমস্যা না হয়। কী কী কাগজ বা প্রমাণ লাগবে?
তরিকুল ইসলাম * আপনি নির্দিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে আপনার নাম সংশোধনের দরখাস্ত করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনার জন্মসনদ, জন্মনিবন্ধন এবং মিউনিসিপ্যালিটি থেকে আপনার আসল নামের ঘোষণাপত্র প্রয়োজন হবে। বোর্ডে সাধারণত নাম সংশোধনের নির্দিষ্ট ফরম থাকে। যাবতীয় তথ্যাদি দিয়ে ফরমটি পূরণ করে নাম সংশোধন করা সম্ভব।

* আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ২০১০ সালের ২৬ নভেম্বর পারিবারিকভাবে বিয়ে করি। জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ায় ওই সময় বিয়ে রেজিস্ট্রেশন বা কাবিন করা হয়নি। বিয়ের পরে আমি জানতে পারি, মেয়েটির বিয়ের আগে অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এমনকি বড় দুই বোনের স্বামীর সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল। আমি তাকে তালাক দিতে চাইলে মেয়ে ও তার বাবা-মা আমার কাছে ক্ষমা চায়। তখন এই বলে প্রতিজ্ঞা করে যে সে আর অন্য কোনো সম্পর্ক করবে না। করলে আমি তাকে যে শাস্তি দেব, তা সে মেনে নেবে।
২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট আমাদের এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে আমি তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করছি। জানতে পারি, আমার ছোট বোনের স্বামীর সঙ্গে সে আবার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে এবং সেটা সে নিজ মুখে আমার কাছে স্বীকার করে।
আমি তার সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতে চাইছি না। কিন্তু সমস্যা হলো, যেহেতু বিয়েটা রেজিস্ট্রেশন বা কাবিন করে হয়নি, শুধু একটি সাদা কাগজে এক লাখ টাকা দেনমোহর উল্লেখ করে দুই পরিবারের সম্মতিতে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই আইনিভাবে আমি তাকে কীভাবে তালাক দেব?
মো. ফয়সাল, ঢাকা
* আপনার বিয়েটি রেজিস্ট্রেশন করা বাঞ্ছনীয়। যেহেতু সাক্ষীর সামনে বিয়েটি সম্পাদিত হয়েছে, সেহেতু বর্তমানে আপনি আপনার বিয়েটি কাজির কাছে রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশনের পর আপনার নিয়মমাফিক তালাক প্রদানে কোনো বাধা নেই। তবে কাবিননামার অর্থ এবং সন্তানের খোরপোশ দিতে আপনি বাধ্য। তালাক চলাকালীন আপনাকে মেয়েটির খোরপোশও দিতে হবে।
* আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ২০০০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের জন্য উত্তরা থানায় মামলা করি। কিন্তু এখনো এর কোনো বিচার পাইনি। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল আমার মাকে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের জন্য সাটুরিয়া থানায় (মানিকগঞ্জ) মামলা করি। গত ২৬ এপ্রিল একজন ১৬৪ ধারায় সাক্ষী প্রদান করে। সে সময় আসামিদের গ্রেপ্তার করলে তাঁদের একজন গত ১৫ জুন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি আসামিদের নাম বলেন এবং কে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা-ও বলেন। কিন্তু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর যেসব আসামির নাম বলা হয়, তাঁরা সবাই হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে যান। এখন কোনো আসামি জেলহাজতে নেই। এখনো মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রদান করা হয়নি। আমি একটি সমাধান চাচ্ছি, যাতে সব আসামিকে জেলে রেখে বিচারকাজ পরিচালনা করা যায়।
মুহাম্মদ মিজানুর রহমান
* আসামিরা ওই মামলায় বেল বা জামিন পাওয়ায় মামলাটি শেষ হয়ে যায়নি। জেলে না থাকলেও মামলাটি চলতে থাকবে। এখন আপনার করণীয় মামলাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। আসামিরা জামিনে থাকা অবস্থায় মামলা চলবে। তবে আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আসামিরা জামিনের অপব্যবহার করছেন এবং তাঁরা বিচারকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন, সে ক্ষেত্রে আপনি জামিন বাতিলের প্রার্থনা করে জেলহাজতে দরখাস্ত করতে পারেন।
* দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পারিবারিক স্ট্যাটাসের দোহাই দিয়ে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিয়ের আসরে ১০ লাখ টাকা কাবিন করান। আমি বেকার বলে বিয়ের পর থেকেই আমার শাশুড়ি আমার স্ত্রীকে তাঁদের বাড়িতে আটকে রাখেন এবং আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীর দেখা ও মেলামেশায় বাধার সৃষ্টি করেন। এতে আমার স্ত্রীরও সায় আছে। 
আমি এখন সরকারি কর্মকর্তা। এখন আমি আমার স্ত্রীকে আমার কাছে নিয়ে আসতে চাইলে এবং আমার পরিবার থেকে বউ উঠিয়ে আনার প্রস্তাব দিলে আমার শাশুড়ি নানা বাহানা করছেন। প্রসঙ্গত আমার শ্বশুর বছরখানেক আগে মারা গেছেন। এখন জানা যাচ্ছে যে আমার স্ত্রীর এর আগে বিয়ে হয়েছিল এবং সেই বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায়ই আমার সঙ্গে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। আমাদের বিয়ের আট দিন পরে পেছনের তারিখ উল্লেখ করে আমার স্ত্রীকে দিয়ে তার আগের স্বামীকে তালাক দেওয়া হয়। তার কিছু প্রমাণ আমার হাতে আছে। আমার স্ত্রীও তাঁর মায়ের কথার বাইরে আমার কাছে আসতে রাজি নয়। এ ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
* বিবাহিত অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ আইনগতভাবে অবৈধ। সুতরাং আরেকজনের বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে আপনার বিয়ের কোনো বৈধতা নেই। নির্দিষ্ট নিয়মে তালাক প্রদানের পর আপনি ওই নারীকে পুনরায় বিবাহ করতে পারেন। এই তালাক প্রদানে তিন মাস সময় প্রয়োজন। তবে বিবাহ বলবৎ থাকাকালীন আপনার সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহ প্রমাণ করার দায়িত্ব আপনার।

৩০ ডিসেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশি দিবস





প্রবাসী বাংলাদেশিরা মেধা ও শ্রম দিয়ে ভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করছেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি দিতে স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি দিবস পালন করতে যাচ্ছে। দিবসটি যাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়, সে দাবি জানিয়েছে এ সংগঠন।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এম. ই চৌধুরী শামীম জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা পালনের পাশাপাশি নয়টি ক্যাটাগরিতে (নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি-এনআরবি এবং পিপল অব বাংলাদেশি অরিজিন-পিবিও) মোট ১৭ জনকে ‘স্কলার অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হবে।
নয়টি ক্যাটাগরি হচ্ছে—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্মাননা স্মারক, তাজউদ্দীন আহমদ সম্মাননা স্মারক, পণ্ডিত রবি শংকর ও জর্জ হ্যারিসন সম্মাননা স্মারক, ড. কুদরত-ই-খুদা সম্মাননা স্মারক, এফ আর খান সম্মাননা স্মারক, আর পি সাহা সম্মাননা স্মারক, ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম সম্মাননা স্মারক, স্যামসন এইচ চৌধুরী সম্মাননা স্মারক ও ফজলে হাসান আবেদ সম্মাননা স্মারক। অন্য সম্মাননাগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা পেলেও ফজলে হাসান আবেদ সম্মাননা স্মারক পাবেন বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকেরা। কেননা সমাজ উন্নয়নে তাদের অবদানও কম না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, মূলধারার রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম, শিল্প-সংস্কৃতি ও খেলাধুলা, শিক্ষা ও গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, বাংলাদেশের সামাজিক খাতে অবদান রাখা ব্যক্তি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, ব্যবসা খাতে অবদান রেখেছেন এমন পরিচিত বন্ধু, আত্মীয়, সহকর্মী বা নিজে নিজের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ওয়েবসাইট- www.scholarsbangladesh.com এ নাম প্রস্তাব করতে হবে।
এ ছাড়াও আজ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, আগামী বছর রাজধানীতে ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর চার দিনব্যাপী তৃতীয় ‘এনআরবি-পিবিও সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।
স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী দিলারা আফরোজ খান বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশে হাত ধোয়া দিবস পালিত হলেও প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কোনো দিবস পালন করা হয় না। রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো প্রয়োজন।
স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের সমাদর করা হলে তাঁরা এক সময় দেশে ফিরে আসতে উৎসাহী হবেন।

বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

১০৪ রানে হারল বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসের পরই ম্যাচের ভাগ্য বলে দেওয়া যাচ্ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে ৩৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করা বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। সেই ‘প্রায় অসম্ভব’ কিছু করে দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। ১০৪ রানে হেরে ওয়ানডে সিরিজও খুইয়ে বসেছে বাংলাদেশ।
অথচ জয় না হোক, ৩০০ ছোঁয়ার কথা ভাবতে পারত বাংলাদেশ। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে দেড় শ রান পেরোনোর পর এমন কিছু তো আর অসম্ভব কিছু নয়! কিন্তু সব লেজে-গোবরে করে দিল মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা। ৮৭ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩ বল আগেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ জয় কিংবা লড়াইয়ের প্রত্যাশা অবশ্য আরও ১৫ ওভার আগেই শেষ।
৩৫৪ রানের লক্ষ্যে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই ফিরেছেন তামিম ইকবাল। যদিও রিপ্লে দেখার পর সিদ্ধান্তটা ভুল বলেই মনে হয়েছে। ৬৯ রানে ফিরেছেন ভালো শুরু করা লিটন দাসও। তবে ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রান যোগ করে ফিরে গেছেন ইমরুল (৬৮)। কিন্তু ম্যাচের আরও ২১ ওভার বাকি থাকায় ও সাকিব আল হাসানকে নামতে দেখায় আশা ছাড়া যাচ্ছিল না। 
কিন্তু চার রান পরের সাকিবও সেমুখো। আশার প্রদীপ বলুন কিংবা বাতি সব হয়ে জ্বলছিলেন শুধু মুশফিক। ৩৪তম ওভারে ৬০ রান করে মুশফিকও আউট হয়ে যেতেই সব ফুরিয়েছে। মাহমুদউল্লাহ (৩৩) শুধু দলকে দুই শই পার করাতে পেরেছেন, ম্যাচ নিয়ে বাড়তি কোনো আগ্রহ জাগাতে পারেননি।
এর আগে কিম্বার্লির প্রথম ওয়ানডেতে কুইন্টন ডি কক-হাশিম আমলা যেখানে শেষ করেছিলেন, বোল্যান্ড পার্কে শুরু করেছিলেন ঠিক সেখান থেকেই। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭.৩ ওভার পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ছিলেন এ দুই প্রোটিয়া ওপেনার। ১৮তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। তুলে নেন ফাফ ডু প্লেসি ও কুইন্টন ডি কককে। কিন্তু এবি ডি ভিলিয়ার্স নেমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন। ডি ভিলিয়ার্স ঝড়ে বাংলাদেশকে ৩৫৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিক দল। 
আমলার সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৩৬ রানের জুটি গড়ার পর ডুমিনিকে সঙ্গে রানের গতি বাড়িয়ে চলছেন ডি ভিলিয়ার্স। ৬৮ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৫তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মারকুটে এ ব্যাটসম্যান। সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন গত বছর কেপটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ১০৪ বলে ১৭৬ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের ইনিংসকে তছনছ করে দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স।
১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে সাকিবের বলে লেগ বিফোর হন ডি কক (৪৬)। ঠিক এর দুই বল পরই প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিকে (০) বোল্ড আউট করেন সাকিব। আগের ম্যাচের তুলনায় আজ শুরুতে বেশ ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৫ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ১৮/০। পরের ৫ ওভারে রানের গতি বাড়িয়েছেন ডি কক-আমলা। ১০ ওভার শেষে স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৫০। ভালো শুরু পেলেও বড় জুটি গড়তে পারেননি তাঁরা। সেটি হতে দেননি সাকিব। 
ওয়ানডেতে সাকিবের দুর্দান্ত বোলিং দেখা যাচ্ছিল না অনেক দিন ধরে। এই ম্যাচের আগে বাঁহাতি অলরাউন্ডার ওয়ানডেতে সর্বশেষ উইকেট পেয়েছেন সেই মে মাসে, ডাবলিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। টানা চার ওয়ানডেতে ছিলেন উইকেটশূন্য।

আইএস ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা, বহু নিহত

ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলে আইএস জঙ্গিদের দুটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে মার্কিন বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মার্কিন সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, উপজাতীয় নেতাদের বাধার মুখে গ্রামবাসী ওই এলাকায় যেতে পারেনি। আরও হামলার আশঙ্কায় তারা হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে পারেনি।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, দুটি ক্যাম্পই বায়দা প্রদেশে। গত গ্রীষ্মে মার্কিন বিমান হামলায় ইয়েমেনে আইএস–প্রধান আবু বিলাল আল হারবি এবং সংগঠনটির সাবেক মুখপাত্র আবু মোহামেদ আল-আদনানি নিহত হয়। এরপর এই ঘাঁটিগুলোর নাম জানা যায়।
এই প্রথম ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে আন্তর্জাতিক জোট আইএস ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর তত্ত্বাবধানকারী কেন্দ্রীয় কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইয়েমের আল-বায়দা গর্ভানোরেটে আইএসের দুটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। সেখানে সন্ত্রাসীরা একে ৪৭, মেশিনগান, রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার ও টেকসই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল।
আইএস ও তাদের জিহাদি প্রতিদ্বন্দী আল-কায়েদা সরকার ও শিয়া হুথিদের মধ্যকার বিরোধের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। বর্তমানে রাজধানীর সানার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে।
২০১৫ সালের মার্চে শিয়াদের মসজিদে আইএস হামলায় ১৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। গত ডিসম্বরে এডেনে সংগঠনটির পরিচালিত বড় ধরনের এক হামলায় অন্তত ৪৮ জন সেনা নিহত হয়।
 

লেহেঙ্গার ওজন ৩০ কেজি!

পদ্মাবতী’ সিনেমার পোস্টার কিংবা ট্রেলার দেখে দীপিকা পাড়ুকোনের মতো পোশাক পরার স্বপ্ন দেখছিলেন? এমন খায়েশ মনে যদি পুষে রাখেন, তাহলে সেটা ভুলে যান। এর থেকে বরং ভার উত্তোলন করা সহজ হবে। কারণ পোস্টারে দীপিকাকে যে লেহেঙ্গা পরতে দেখা যায়, তার ওজন ৩০ কেজি। শুধু ছবি তোলার জন্য নয়, এই সিনেমার বেশির ভাগ দৃশ্যেই এমন ওজনদার পোশাক পরতে হয়েছে নায়িকাকে। মহারানির বেশে এসব ভারী লেহেঙ্গা পরে তাঁকে শুটিং করতে হয়েছে টানা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। ‘পদ্মাবতী’র প্রায় ১০০ দিনের শুটিংয়ে এই ‘অত্যাচার’ হাসিমুখে সহ্য করেছেন দীপিকা।
এর আগেও সঞ্জয় লীলা বানসালির অন্য দুটি সিনেমায় এমন ওজনদার পোশাক গায়ে চাপাতে হয়েছিল দীপিকাকে। ‘গলিয়ো কা রাসলীলা রামলীলা’ সিনেমায় ৩০ কেজি ওজনের একটি পোশাক পরেছিলেন তিনি। তবে সেটি ছিল কেবল একটি ফটোশুটের জন্য। তবে ‘বাজিরাও মাস্তানি’তে ডিজাইনার আঞ্জু মোদির নকশা করা পোশাকগুলো খুব বেশি ভারী ছিল না। কিন্তু এরপরও রক্ষা পাননি দীপিকা। যুদ্ধের একটি দৃশ্যে দীপিকাকে পরিচালক ২০ কেজি ওজনের একটি ধাতব বর্ম পরিয়েছিলেন। সেটি অবশ্য ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার বিষয়।
বানসালির সিনেমার নায়িকা হলে এই এক যন্ত্রণা। ঐতিহাসিক ছবির জন্য তিনি যেমন রাজকীয় সেট নির্মাণ করেন, তেমনি নায়িকাদেরও পরান ভারী ভারী পোশাক আর গয়না। তাঁর ‘দেবদাস’ সিনেমায় চন্দ্রমুখীর চরিত্রে মাধুরী একটি লেহেঙ্গা পরেছিলেন ‘কাহে ছেড় ছেড় মোহে’ গানে। সেটির ওজনও ছিল ৩০ কেজি।

এবার নাজমুল বললেন, মুশফিক দুর্দান্ত!




সংবাদ সম্মেলনে টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ায় মুশফিকুর রহিমের ওপর যে বিসিবি অসন্তুষ্ট, সেটি বোঝা গেছে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের কথায়, ‘ও যেসব মন্তব্য করছে, সেটা দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর সেই মুশফিককে নিয়েই এবার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন বিসিবি সভাপতি।
আজ চার বছরের মেয়াদ শেষ হলো নাজমুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের। গত চারটি বছর কেমন গেল—সাফল্য-ব্যর্থতার নানা বিশ্লেষণ শেষে একপর্যায়ে মুশফিকের প্রসঙ্গটাও এল। কদিন আগে মুশফিককে নিয়ে ঝাঁজাল মন্তব্য করেছিলেন বিসিবি সভাপতি। মাঠের পারফরম্যান্স, কোচের সঙ্গে দূরত্ব কিংবা নানা মন্তব্যে বোর্ডের অসন্তুষ্টি—সব মিলিয়ে অস্বস্তিকর কিছুদিন গেছে মুশফিকের। তীব্র চাপেই তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। যেটি আপ্লুত করছে নাজমুলকেও, ‘মুশফিক দুর্দান্ত! ও চাপে থাকবে না। সে আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। দুজন ব্যাটসম্যানের কথা বললে ওর নাম আসবে।’ 
গত চার বছর এই পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদে বাংলাদেশ দল পেয়েছে স্মরণীয় কিছু জয়। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন কোয়ালিফাই করতে পারেনি, সেটিতে এবার সেমিফাইনাল খেলেছে। প্রথমবারের মতো ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ঘটনাও ঘটেছে এই চার বছরে। এই সাফল্যগুলো নাজমুলকে যেমন তৃপ্তি দিচ্ছে, কিছু অতৃপ্তিও আছে তাঁর, ‘এখনো অনেক দূর যাওয়া বাকি। দেশের মাটিতে যত ভালো খেলি, বাইরে অতটা ভালো খেলি, সেটা বলা যাবে না। ধরুন দক্ষিণ আফ্রিকা, এ ধরনের কন্ডিশনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এখানে উন্নতির অনেক জায়গা আছে, অনেক কিছু শেখার আছে।’ 
আবারও কি বিসিবি সভাপতি হিসেবে দেখা যাবে নাজমুলকে? নাজমুলের কথায় মনে হলো, আবারও আসছেন তিনি, ‘এখন পর্যন্ত চিন্তা হচ্ছে পরিচালক হিসেবে থাকতে চাই। আগে সব পরিচালক নির্বাচিত হয়ে আসুক। যেই হোন, পরিচালকদের ভোটেই তো সভাপতি হতে হবে। এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে যারা আছে, সবাই তো চাইছে আমিই হই।’

 

১০ শতাংশ ধনীর হাতে ৩৮ শতাংশ আয়

দেশের মোট আয়ের ৩৮ শতাংশই করেন ওপরের দিকে থাকা ১০ শতাংশ ধনী। আর মোট আয়ের মাত্র ১ শতাংশ করেন সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষ। যদিও সামগ্রিকভাবে দেশের দারিদ্র্য কমেছে। যেমন, গত ছয় বছরে সার্বিক দারিদ্র্যের হার সাড়ে ৩১ শতাংশ থেকে কমে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। মূলত ধনী-গরিব নির্বিশেষে আয় বৃদ্ধির কারণেই দারিদ্র্য কমেছে। তবে এই আয় বৃদ্ধির দৌড়ে গরিবের চেয়ে ধনীরাই বেশি এগিয়ে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানার আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপ-২০১৬-তে এই চিত্র পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। আগারগাঁওয়ের বিবিএস মিলনায়তনে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই জরিপ করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর পর এই জরিপ করা হয়। এবারে জরিপের তথ্য অবশ্য ২০১৬ সালের।


সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশের আয় মোট আয়ের ১%
*গ্রামে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি*ভাত খাওয়া কমেছে*জানুয়ারি–মার্চে গরিব বাড়ে*কুড়িগ্রামে সবচেয়ে বেশি গরিব, কম নারায়ণগঞ্জে


দেশের মোট আয়ের ৩৮ শতাংশই করেন ওপরের দিকে থাকা ১০ শতাংশ ধনী। আর মোট আয়ের মাত্র ১ শতাংশ করেন সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষ। যদিও সামগ্রিকভাবে দেশের দারিদ্র্য কমেছে। যেমন, গত ছয় বছরে সার্বিক দারিদ্র্যের হার সাড়ে ৩১ শতাংশ থেকে কমে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। মূলত ধনী-গরিব নির্বিশেষে আয় বৃদ্ধির কারণেই দারিদ্র্য কমেছে। তবে এই আয় বৃদ্ধির দৌড়ে গরিবের চেয়ে ধনীরাই বেশি এগিয়ে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানার আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপ-২০১৬-

তে এই চিত্র পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। আগারগাঁওয়ের বিবিএস মিলনায়তনে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই জরিপ করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর পর এই জরিপ করা হয়। এবারে জরিপের তথ্য অবশ্য ২০১৬ সালের।
*সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশের আয় মোট আয়ের ১%*গ্রামে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি*ভাত খাওয়া কমেছে*জানুয়ারি–মার্চে গরিব বাড়ে*কুড়ি
দেশে অতি দারিদ্র্যের হারও কমেছে। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা বিশ্বের গড় দারিদ্র্যের হারের চেয়ে কম। বিশ্বের গড় দারিদ্র্যের হার ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বিবিএসের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ। সেই হিসাবে, দেশে ৩ কোটি ৯৩ লাখ দরিদ্র মানুষ আছে। হতদরিদ্রের সংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখ।
মৌলিক চাহিদার ব্যয় (কস্ট অব বেসিক নিডস) পদ্ধতির মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিস্থিতি পরিমাপ করেছে বিবিএস। জরিপ করে খানা বা পরিবারের আয়-ব্যয়, ভোগ, পুষ্টিমান, জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদির তথ্য নেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তি যদি দিনে ২ হাজার ১২২ কিলোক্যালরির খাবার কেনার সামর্থ্যের পরও কিছু টাকা খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে খরচ করতে পারেন, তাহলে তাঁরা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন বলে ধরে নেওয়া হয়। আর যাঁদের দৈনিক মোট খরচ করার সামর্থ্য ২ হাজার ১২২ কিলোক্যালরি খাদ্য কেনার সমান, তাঁরা হতদরিদ্র।
দারিদ্র্য কমার গতি কমেছে
জরিপ অনুযায়ী দেশে দারিদ্র্যের হার কমার প্রবণতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। ২০০০ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। পরের পাঁচ বছরে ১ দশমিক ৭৮ শতাংশীয় মানে কমে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে। আর ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল সাড়ে ৩১ শতাংশ। ২০০৫ থেকে ২০১০ সময়ে প্রতিবছর গড়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশীয় মানে দারিদ্র্য কমেছে। এরপরের ছয় বছরে দারিদ্র্য কমেছে গড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশীয় মানে।

গ্রামে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে বেশি
প্রতিটি পরিবারের আয় যেমন বেড়েছে, খরচও বেড়েছে। বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। ছয় বছরের ব্যবধানে মাসিক গড় আয় বেড়েছে ৪ হাজার ৪৬৬ টাকা। সার্বিকভাবে শহরের একটি পরিবার এখন গ্রামের আরেকটি পরিবারের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি আয় করে। শহরের পরিবারের গড় আয় ২২ হাজার ৫৬৫ টাকা, গ্রামের পরিবারের আয় ১৩ হাজার ৩৫৩ টাকা।
এবার আসি খরচ কোথায় কেমন। বিবিএস বলছে, গ্রামের একটি পরিবার মাসে যত আয় করে, এর চেয়ে বেশি খরচ করে। গ্রামের পরিবার মাসে গড়ে ১৪ হাজার ১৫৬ টাকা ব্যয় করে, যা আয়ের চেয়ে ৮০৩ টাকা বেশি। শহরের পরিবারের গড় খরচ ১৯ হাজার ৬৯৭ টাকা। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে একটি পরিবারকে সংসার চালাতে মাসে গড়ে ১৫ হাজার ৯১৫ টাকা খরচ করতেই হয়।
ভাত খাওয়া কমেছে
এ দেশের মানুষ আগের চেয়ে ভাত কম খায়। তবে শাকসবজি, ডাল, মাংস ও ডিম খাওয়া বেড়েছে। ২০১০ সালে একজন মানুষ দিনে গড়ে ৪১৬ গ্রাম চাল বা ভাত খেত। ২০১৬ সালের জরিপে দেখা গেছে, এখন তারা দিনে গড়ে ৩৬৭ গ্রাম চাল বা ভাত খায়। এর ফলে সার্বিকভাবে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমে গেছে। এখন দিনে একজন মানুষ ৯৭৬ গ্রাম খাবার খায়। ২০১০ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ কেজি বা ১ হাজার গ্রাম।
দেশের মানুষের খরচের খাতগুলোও পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে মোট খরচের ৫৪ শতাংশই খাবার কেনায় যেত। এখন তা কমে ৪৭ শতাংশ নেমে এসেছে। বিবিএস বলছে, প্রথমবারের মতো খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় খাদ্যের তুলনায় বেড়েছে, যা উন্নয়নের একটি অন্যতম নির্দেশক।
আয় বৈষম্য বেড়েছে
গরিবদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ কমে গেছে, ধনীদের তা বেড়েছে। বিবিএস বলছে, দেশের সব মানুষের যত আয়, এর মাত্র ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ আয় করেন সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষ। ছয় বছর আগেও মোট আয়ের ২ শতাংশ এই শ্রেণির মানুষের দখলে ছিল।
অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয় মোট আয়ের ৩৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। ছয় বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৩৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বিবিএস জরিপে আরও বলা হয়েছে, দেশের মোট আয়ের দুই-তৃতীয়াংশের মালিক ওপরের দিকে থাকা ৩০ শতাংশ মানুষ।
সবচেয়ে বেশি গরিব কুড়িগ্রামে, কম নারায়ণগঞ্জে
এবারের খানার আয় ও ব্যয় জরিপে প্রথমবারের মতো জেলা পর্যায়ে দারিদ্র্য পরিস্থিতি দেখানো হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় দারিদ্র্যের হার ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ কুড়িগ্রামে প্রতি ১০০ জনে ৭০ জনের বেশি গরিব। সবচেয়ে কম গরিব মানুষ থাকে নারায়ণগঞ্জ জেলায়। সেখানে দারিদ্র্য মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
রাজধানী ঢাকায় প্রতি ১০ জনে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামে দারিদ্র্যের হার ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
জানুয়ারি-মার্চে গরিব মানুষ বাড়ে
এবারের খানা জরিপে প্রান্তিকভিত্তিক দারিদ্র্যের হার কেমন—তাও তুলে ধরা হয়েছে। জরিপটি ২০১৬-১৭ অর্থবছর জুড়ে করা হয়েছে। জরিপের হিসাবে দেখা গেছে, জানুয়ারি-মার্চ মাসে দেশের গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। ওই তিন মাসে দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে ২৭ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বাস করেন। এ সময় কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে কম। আবার এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে গরিব মানুষের সংখ্যা কমে যায়। ওই সময়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন সাড়ে ২২ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া জুলাই-সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এই হার যথাক্রমে ২৩ শতাংশ ও ২৬ দশমিক ১ শতাংশ।
আলোচনা
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এ দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হয়েছে। আগের চেয়ে তাঁরা ভাত কম খাচ্ছেন, কার্বোহাইড্রেট কম খাচ্ছেন। এতে বেশি দিন বাঁচবেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে হতদরিদ্রের হার ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এই হার ১৬ শতাংশ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির কারণেই দারিদ্র্য কমছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, এই জরিপের ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে। ভালো দিক হলো, দারিদ্র্য কমেছে, ভোগ ব্যয় বেড়েছে। আবার খারাপ দিক হলো, দারিদ্র্য কমার গতি কমেছে। আয় বৈষম্যও বেড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পালালকার বলেন, ২০০০ সালের পর থেকে এই পর্যন্ত বাংলাদেশ দারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যা একটি বিরাট সাফল্য। তখন প্রতি দুজনে একজন গরিব মানুষ ছিল। কত মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠল, নীতিনির্ধারণের জন্য তা জানা দরকার।
অনুষ্ঠানে এই জরিপ প্রকল্পের পরিচালক দীপঙ্কর রায় জরিপটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক, বিবিএসের মহাপরিচালক আমীর হোসেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাশিয়া ও চীন পাশে আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে রাশিয়া ও চীন বাংলাদেশের পাশে আছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি রাখাইন সমস্যার সমাধানে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা বলেছে। চীনের প্রতিনিধিও এ সমস্যার মূল উৎসে যাওয়ার কথা বলেছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন জোরালোভাবে বাংলাদেশের পাশে আছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি নেপথ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব ঘোষণার উল্লেখ করে আবুল হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো—প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলা। তাই জাতিসংঘ মহাসচিব ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত রাশিয়া ও চীনে 

খাবারে মাছি বসলে কী হয়?


রাস্তার পাশের একটি দোকানে বসেছেন সিঙ্গারা খেতে। একটা কাঁচামরিচ আর সিঙ্গারা নিয়ে আয়েশ করে সবে মাত্র কামড় বসাতে যাবেন, অমনি একটা মাছি এসে বসে পড়লো আপনার সাধের সিঙ্গারায়। এমন সময় কি করবেন? মাছিটিকে তাড়িয়ে খেয়ে নিবেন নাকি আস্ত সিঙ্গারাটাই ফেলে দিবেন? জেনে নিন খাবারে মাছি বসলে কী হয় সেই সম্পর্কে।
মাছি কী বহন করে?
একটি মাছি সাধারণত একশ’র বেশি প্যাথোজেন বহন করেন। প্যাথোজেন হলো মাইক্রো অর্গানিজম যা রোগ বালাই সৃষ্টি করে। অনেক অস্বাস্থ্যকর স্থানে বসার পরে মাছি উড়ে এসে আপনার খাবারে বসে। ফলে খাবারে মাছির শরীরে লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং প্যারাসাইট এগ লেগে যায় যা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

মাছি কী করে?
খুব সাধারণভাবে চিন্তা করলে মনে হয় মাছি হয়তো খাবার খেতে বসেছে। আরেকটি ভালো করে দেখলে মনে হতে পারে একটি পায়ের সঙ্গে আরেকটি পা ঘষছে। কিন্তু মাছি মূলত বমি করে। মাছি খাবারে বসে শেষবার গ্রহণ করা খাবারটি বমি করে খাবারটাকে তরল করার জন্য। তরল করে নিলে খাবার গ্রহণ করা সহজ হয় মাছির জন্য। মাছির পায়ে লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়ার থেকেও বমিতে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া আরও ভয়াবহ।
কী করা উচিৎ
মাছি খাবারে বসলেই যে পুরো খাবারটি ছুড়ে ফেলে দিতে হবে এমনটা নয়। খাবারের যেই অংশে বসেছে শুধু সেই অংশটি ছিঁড়ে ফেলে দিলেই আপনি নিরাপদ। এছাড়াও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এসব ব্যাকটেরিয়া সাধারণত কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তবে অবশ্যই সাবধান থাকা জরুরী। বাইরের খাবার এড়ানোর পাশাপাশি ঘরের খাবারও ঢেকে রাখুন যেন মাছি বসতে না পারে খাবারে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

আমিরের কাছে অস্কার গুরুত্বহীন

বলিউড তারকা আমির খান পুরস্কারের ব্যাপারে কখনোই ব্যস্ত হন না। এমনকি কোনো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও দেখা যায় না তাঁকে। তাঁর নতুন ছবি ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ নিয়ে প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন। আলাপ প্রসঙ্গে জানালেন, অস্কারের মতো পুরস্কারও তাঁর কাছে গুরুত্বহীন।
রাজকুমার রাও অভিনীত ‘নিউটন’ এবার অস্কারে বিদেশি ভাষার ছবি বিভাগে ভারত থেকে মনোনীত হয়েছে। অথচ বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবি ‘দঙ্গল’ সেদিক থেকে পিছিয়ে আছে। এ প্রসঙ্গে আমির বলেন, ‘অস্কারের জন্য “দঙ্গল”-এর নাম আমরা প্রস্তাব করিনি। এর আগে আমার আরেকটি ছবি “লগান” অস্কারে গিয়েছিল। অস্কারে যাওয়ার জন্য নীতিমালা কী, তা আমার জানা নেই। ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া একটা কমিটি গঠন করে। চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ কমিটিতে থাকেন। অস্কারে কোন ছবি যাবে, এই সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেন। এটা তাঁদের ব্যাপার। তাঁরাই করুক।’
আমির আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রচুর ভালো সিনেমা হচ্ছে। আমার কাছে যে ছবিটা ভালো লেগেছে, আপনার কাছে তা ভালো না-ই লাগতে পারে। এ নিয়ে তর্ক করে লাভ নেই। তাই এসব পুরস্কারে আমি বিশ্বাসী নই।’
তার মানে আপনার কাছে অস্কারের মতো পুরস্কারের কোনো গুরুত্ব নেই? আমির খান বলেন, ‘আমি এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। এমনকি আমার কাছে অস্কারের তেমন গুরুত্ব নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, অস্কারে পাঠানোর জন্য কোনো ছবি মনোনীত হলে, ওই ছবির ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ বাড়ে।’
‘নিউটন’ ছবি নিয়ে আমির খান বলেন, ‘ছবিটি অস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার পর তা দেখার ব্যাপারে দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু শুরুতে ছবিটিকে ঘিরে সেই উত্তেজনা ছিল না। “নিউটন” যদি অস্কারে প্রথম পাঁচটি ছবির মধ্যে আসে, তাহলে সবার আগ্রহ আরও বাড়বে। আর অস্কার পেলে তো কথাই নেই। তাই আমি বলব, অস্কার শুধু ছবিটি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ায়।’
আপনি ‘নিউটন’ দেখেছেন? আমির খান বলেন, ‘না, এখনো দেখা হয়নি। তবে শুনেছি, এটি নাকি খুব ভালো সিনেমা হয়েছে।’
আমির খান প্রযোজিত এবং অভিনীত ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ ছবিটি ১৯ অক্টোবর মুক্তি পাবে। অদ্ভেদ চন্দন পরিচালিত ছবিতে অভিনয় করেছেন জাইরা ওয়াসিম।

মোদির প্রশংসায় প্রণব মুখার্জি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, উনি অসম্ভব পরিশ্রমী। লক্ষ্য স্থির রেখে তা পূরণ করার অদম্য এক বাসনা তাঁর মধ্যে রয়েছে। তাঁর দৃষ্টিশক্তিও খুব স্বচ্ছ। সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেছেন, চাহিদা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এক স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। কঠিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে কীভাবে তা হাসিল করা যায়, সেটাও তাঁর জানা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজ মঙ্গলবার প্রণব মুখার্জি এ কথা বলেন। নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করলেও এই সাক্ষাৎকারে প্রণব বাবু বুঝিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রীর কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার ডাক নিয়ে তিনি ভিন্নমত পোষণ করেন। 
কংগ্রেস মনোনীত রাষ্ট্রপতি হলেও প্রণব মুখার্জি সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদি সব সময় শ্রদ্ধাবনত। গত জুলাই মাসে প্রণব মুখার্জির লেখা বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থিতু হওয়ার সময় প্রতি মুহূর্তে প্রণব বাবুর পরামর্শ নিয়েছি। আমি ভাগ্যবান, তাঁর সাহচর্য পেয়েছিলাম বলে।’ সেই মোদি সম্পর্কে প্রণব বাবুও প্রশংসার ঝুলি উজাড় করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে উনি প্রস্তাব দেন সার্ক সদস্যদেশগুলোর প্রধানদের তিনি আমন্ত্রণ জানাতে চান। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতিতে তাঁর আগ্রহ যে কতটা ছিল, তা ওই প্রস্তাবের মধ্য দিয়েই বোঝা গিয়েছিল। অভূতপূর্ব প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে আমার মনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছিল না।’
রাজনীতিগত দিক দিয়ে দুজনে দুই মেরুর বাসিন্দা। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কখনো অসুবিধা হয়নি। রাজনৈতিক এই ভিন্নতা সত্ত্বেও দুজনের প্রতি দুজনের ভরসা ও বিশ্বাসের কথা দুজনেই একাধিকবার স্বীকার করেছেন। রাষ্ট্রপতির বিদায়ী ভাষণে প্রণব বাবু বলেছিলেন, আবেগ, তাড়না ও অফুরন্ত জীবনীশক্তি নিয়ে মোদি দেশে পরিবর্তন আনার কাজে নেমেছেন। বিদায় মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদি তাঁকে যে চিঠি লিখেছিলেন, তা তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। 
এত প্রশংসা সত্ত্বেও প্রণব বাবু কিন্তু ভিন্নমত পোষণ করতে দ্বিধান্বিত হননি। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার যে ডাক মোদি দিয়েছেন, তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সহমত নন। সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিঃশেষ করা যায় না। তিনি বলেন, প্রতিটি দলই টিকে থাকার আশা নিয়ে আসে। আদর্শ, নীতি, ক্ষমতা ও জনতার চাহিদা অনুযায়ী তাদের ভূমিকা পালন করে।

দুই জেলায় চার মৎস্য কর্মকর্তা আহত

মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে ইলিশ রক্ষা অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে চার মৎস্য কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জে আহত মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, আজ বুধবার ভোররাত চারটায় পদ্মা নদীর লৌহজংয়ের তেওটিয়া অংশে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। এ সময় একটি সংঘবদ্ধ জেলে দল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌকা থেকে চরে ইলিশ মাছ নামাচ্ছিল। নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, থানা-পুলিশ ধাওয়া করলে তারা পিছু হটে যায় এবং পরবর্তী সময় শতাধিক জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযানরত দলকে আক্রমণ করে। আক্রমণকারীরা ইট-পাথর নিক্ষেপ করলে লৌহজংয়ের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাসেল মোল্লা আহত হন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এ বিষয়ে লৌহজং থানায় একটি মামলা হয়েছে।
লৌহজং থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব খান প্রথম আলোকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
এদিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোকসেদুর রহমান এবং দৌলতপুরের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তসলিমা আক্তার আজ ভোরে অভিযান পরিচালনার সময় আহত হন। তাঁরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহত কর্মকর্তাদের দেখতে যান।

সবার জিবনে একটা ভালোবাসার অপসন থাকে। কারো কাছে হয়তো খাওয়া দাওয়া কারো কাছে বই পড়া। কিংবা কারো কারো নারীর প্রেম কিংবা বহুত কিছু সবার জিবনে আল...